Love Story

একটা ব্যার্থ ছেলের গল্প :-
,,
রাত ১২:৩৭ মিনিট,
রেল লাইনে হাটছি, জনশূন্য এলাকা
চারিদিকে অন্ধকার, নিস্তব্ধ নীরব,
ঝিঝি পোকার ডাকাডাকি
ছাড়া কোনো কিছুই কানে আসছে
না।
যদিও ছোট থেকেই অন্ধকার আমার
খুব ভয় করে, এখনও প্রতিরাত ঘরে
লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাই, কিন্তুু কেন
জানি আজকে একটুও ভয় করছে না।
পকেটে একটা মাত্রই সিগারেট
অবশিষ্ট আছে,
সিগারেটটা জালালাম।
হাটছি অজানার পথে, আর ভাবছি
অতীত স্মৃতি…………………
,,
,,
,,
আমি শারিফ, গরীব বাবা মার
একমাত্র সন্তান।
আমাকে নিয়ে আমার মায়ের
অনেক স্বপ্ন। একদিন আমি অনেক বড়
হবো, মায়ের সব দুঃখ দুর করব,
তাই অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে
বাবা মা আমাকে লেখাপড়া
করায়,
আমিও বাবা মার কষ্ট বুঝতে পারি,
তাই মন দিয়ে পড়াশোনা করি।
ছাত্র হিসেবেও খুব খারাপ ছিলাম
না,
দুষ্টমীর জন্য স্যারের অনেক বকা
খেয়েছি, মার খেয়েছি,
কিন্তুু পড়াশোনা ব্যাপারে
স্যারেরা খুব কমই বকতো আমাকে।
স্যারেরা আমাকে অনেক
ভালবাসতো।
এভাবে স্কুল জীবনটা ভালই
কাটছিল,
আমার বন্ধু ছিল অনেক কিন্তুু বান্ধবী
ছিলনা বললেই চলে,
কারন মেয়েদের সাথে কথা বলতে
আমার লজ্জা করতো।
যখন ক্লাস নাইনে উঠলাম, গ্রুপ
আলাদা হয়ে গেল,
আমার কয়েকটা বন্ধু সহ আমি
সায়েন্স নিলাম, তারমধ্যে
কয়েকটা মেয়েও ছিল,
ভালই চলছিল আমাদের ক্লাস,
হঠাৎ অামাদের গ্রুপের একটা
মেয়েকে খুব ভাল লেগে গেল
আমার,
তার স্বভাব চরিত্র, কথা বলা, সব
কিছুই আমার ভাল লাগতো, ভাল
লাগাটা কখন যে ভালবাসায়
পরিনত হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম
না।
একদিন সাহস করে তাকে আমার
ভালবাসার কথাটা বলে দিই,
ঐদিন সে কোনো শর্ত ছাড়াই
আমাকে accept করেছিল, এটাও
বলেছিল ও নাকি অনেক আগে
থেকেই আমাকে পছন্দ করতো।
সেদিন আমি অনেক happy
হয়েছিলাম।
তো যাই হোক, ভালই চলছিল
আমাদের ভালবাসার দিনগুলো,
এক সাথে বসে ক্লাস করা, ক্লাসের
মধ্যে দুজন দুজনকে দেখে
হাসাহাসি, চোখাচোখি, রাত
জেগে ফোনে কথা বলা, সব
মিলিয়ে আমাদের মধ্যে খুব মিষ্টি
সম্পর্ক গড়ে উঠে,
দিনদিন ওর প্রতি আমার ভালবাসা
বাড়তে থাকে, সব সময় শুধু ওকে
নিয়েই ব্যাস্ত থাকতাম, অনেক স্বপ্ন
দেখতাম….
___ পড়াশোনা শেষ করে একদিন
আমরা অনেক বড় হবো, বিয়ে করব,
একসাথে খাবো, ঘুমাবো , একসাথে
অনেক জায়গায় ঘুরবো, অনেক মজা
করব।
,,
এই দিকে আমার মা বাবার
স্বপ্নগুলো আমি ভুলতেই বসেছি,
কারন আমি তখন নিজের স্বপ্ন
নিয়েই ব্যাস্ত…..
SSC পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল,
সব গুলো পরীক্ষা দিলাম রেজাল্ট
আশানুরুপ আসলো না, আসবে কি
করে….?
না পড়লে যা হয়।
বাবা মাকে সেবার যেকোনো
ভাবে শান্তনা দিলাম।
,,
কিছুদিন পর দুজন একই কলেজে ভর্তি
হলাম,
সায়েন্স থেকে আর্স নিলাম, আশা
ছিল ভাল কোনো ভার্সিটিতে
পড়বো।
প্রথম প্রথম ভালই কলেজে যেতাম,
কলেজে কোনোদিন ওর সাথে কথা
বলার ভাগ্য হয়নি আমার,
কারন ও এখন অনেক ব্যাস্ত,
পড়াশোনা নিয়ে, বন্ধু বান্ধব
নিয়ে,
ও হ্যা বলায় হয়নি, ও SSC তে GPA 5
পেয়েছিল।
প্রমান করেছিল সে একজন ভাল
ছাত্রী,
তাই অল্পদিনেই সবার সাথে
পরিচিতি লাভ করেছিল,
কলেজে আমাকে দেওয়ার মত ওর
কোনো সময়ই ছিল না।
ফোনেই কথা হতো বেশী,
ইদানিং ওকে পরিবর্তন হয়ে যেতে
দেখি,
প্রায় সময় wating পেতাম, জিঙ্গেস
করলে,,, বাবা, দুলাভাই, বড় বোনের
নাম করে আমাকে শান্তনা দিত।
আমিও তাকে পাগলের মত বিশ্বাস
করতাম।
দিন দিন wating এর পরিমান বাড়তে
থাকে, ওর মাঝে পরিবর্তনও আসে
ব্যাপক,
মনে করতাম পড়াশোনার অনেক চাপ
তাই হয়তো এমন করছে।
সব কিছু নরমালি নিতাম।
,,
,,
কিন্তুু একদিন আমার এক বন্ধুর কাছে
জানতে পারলাম কলেজের smart,,,,
handsome,,, brilliant একটা ছেলের
সাথে ও সম্পর্কে জড়িয়েছে।
প্রথমে বিশ্বাস করিনি, কারন ও
আমাকে অনেক ভালাসতো , আর
আমিও ওকে আমার জীবনের
থেকেও বেশী ভালবাসতাম,
তাহলে আমাকে রেখে কেন অন্য
ছেলেকে ভালবাসতে যাবে…?
,,
একদিন ঐ ছেলের সাথে দেখা
হলো, সব কিছু জানতে চাইলাম,
ও সেদিন অনেক হেসেছিল আর
বলেছিল,
“”””আসলে টাইম পাস করার জন্য আমি
ওকে প্রোপোজ করেছিলাম কিন্তুু
ভাবতেই পারি নি এত সহজে ও
আমাকে accept করবে, শুধু এই নয় ওর
সাথে আমার শারারিক সম্পর্কেরও
কিছু কিছু হয়ে গেছে””””
,,
কথাগুলো শুনে সেদিন কথা বলার
ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম,
যাকে এত ভালবাসলাম,
ভালবাসাকে অপবিত্র করব না বলে
যাকে কোনোদিন স্পর্শ করি নি,
আর সে কিনা অন্যছেলের
সাথে………………..
সেদিন থেকেই কলেজে আর
যায়নি আমি।
কারন ওকে দেখলেই আমার খুব ঘৃনা
হতো আর কষ্ট হতো,
ওকে অনেকবার বলেছি কেন এমন
করলে আমার সাথে, কি অপরাধ
করেছি আমি?
ও হেসে হেসে একদিন বলেছিল,
–আসলে তোমাকে আমি কখনই
ভালবাসি নি, দেখছিলাম তুমি কত
বোকা,
–সেদিন ওকে আমি কিছুই বলিনি,
শুধু আল্লাহ্ কে বিচার
দিয়েছিলাম।
,,
আর কথা বলি না ওর সাথে, ওইও ভুল
করেও আমাকে আর ফোন দেয় না,
দেবে কেন?
ওতো এখন নতুন মানুষকে নিয়ে
ব্যাস্ত,
,,
দেখতে দেখতে টেস্ট পরীক্ষা
চলে এলো,
পরীক্ষা দিলাম কিন্তুু একটা
বিষয়ে ফেইল আসলো বাসায়
কাউকে বলি নি, অনেক কষ্টে ফরম
পুরন করলাম।
পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ খুব
কমে যায় আমার,
রাতে যখন বই খুলি, তখনই ওর কথা মনে
পড়ে যায় আমার,
বসে বসে ভাবি,
এই সময়টাই
আমরা কত কথা বলতাম,
শীতের রাতের কথা আমার এখনও
মনে আছে,
ঘরের মধ্যে নেটওয়ার্ক সমস্যা হতো
বলে কনকনে শীতেও রাস্তায়
গিয়ে কথা বলতাম।
,
কিন্তুু আজ আমি একা, ও হয়তো তার
নতুন মানুষের সাথে কথা বলছে,
হাসাহাসি করছে, মজা করছে,
আমার কথা হয়তো ওর একবারের জন্যও
মনে পড়ছে না।
এসব ভাবি আর কাদি, কখন যে রাত
পার হয়ে যায় বুঝতেই পারি না।
,,
এপ্রিলের চার তারিখ আমাদের
ফাইনাল পরীক্ষা শুরু,
কিন্তুু ভাল প্রস্তুুতি নিতে পারলাম
না,
নেব কি করে…?
সারাক্ষন যে ওর স্মৃতিগুলো
আমাকে অনেক কষ্ট দেই,,
পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল, কয়েকটা
হয়েও গেল কিন্তুু একটাও ভাল
হচ্ছিল না,
I.C.T পরীক্ষা খুবই খারাপ হলো
মেচে এসে উত্তর মিলিয়ে দেখি
নৈর্ব্যক্তিক এ ফেইল।
মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো,
মানুষের কাছে রেজাল্টের পর কি
করে মুখ দেখাব?
যে মা আমাকে প্রতিরাত ফোন
দিয়ে বলতো বাপ ভাল করে
পরীক্ষা দিস, এবার কিন্তুু GPA 5
পেতেই হবে,
সেই মাকে অামি কি জবাব দেব?
সেদিন সারাদিন সারারাত দরজা
বন্ধ করে কেদেছি…….
,,
পরের দিন মেস ছেড়ে বাসায় চলে
অাসি, বাসায় সব কিছু বলে দিই ,
অামার মা সেদিন অনেক
কেদেছিল, অামাকে এত কষ্ট করে
পড়াচ্ছে, আমাকে নিয়ে স্বপ্ন
দেখছে, আমি এবার GPA 5 পাবো,
আর আমি কি না………….!!!
সেদিন থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ
করে দেই আমার মা,
বাবা সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত
কথা বলেনি আমার সাথে।
অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার সব
জায়গায় খবর পৌছে গেল শারিফ
পরীক্ষা দেই নি,
ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে
দিলাম, যদি কোনো প্রয়োজনে
বাইরে বের হওয়া লাগতো সবার
কাছে অনেক জবাবদিহি করতে
হতো, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে
এলাকার সবাই আমাকে অপমান
করতো।
সবাই হাসতো আমাকে দেখে,
আর আমি রাতের নীরবতায় একাকি
কাদতাম,
মনে মনে বলতাম,,,,,
কি ছিলাম অার কি হয়ে গেলাম,
মানুষ কি করে এত বেইমান হয়?
কেন ভালবাসতে গেলাম ঐ
বেইমানকে?
,,
যে বাবা মা আমার জন্য এত কষ্ট
করলো, আমি তাদের কি দিতে
পারলাম……?
একটা বেইমানের পাল্লায় পড়ে
বাবা মায়ের স্বপ্ন আমি পুরন করতে
পারলাম না,
সবার কাছে হাসির পাত্র হয়ে
গেলাম
কি হবে আমার বেচে থেকে…….?
চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছে,
মনে হচ্ছে চোখের পানি গুলোও
আমাকে দেখে হাসছে আর বলছে
তুই বাবা মায়ের কুলাংগার সন্তান,
এই পৃথিবীতে বেচে থাকার
কোনো অধিকার তোর নেই, তোর
মরাই ভাল…….
,,
,,,,
,,,
,,,
হঠাৎ ট্রেনের হর্নের শব্দে বাস্তবে
ফিরে আসলাম, হাটতে হাটতে যে
কোথায় চলে এসেছি জানি না,
ট্রেন তার আপন মনে হর্ন দিয়েই
চলেছে, কিন্তুু আমার কিচ্ছু যায়
আসছে না।
ট্রেনটা আমার খুব কাছাকাছি চলে
এসেছে, কিন্তুু সরে যেতে ইচ্ছে
করছে না।
“””দেখিই না কি হয় “”””

Advertisements